আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে কালো দাগের কারণ ও পরিচর্যা – NariBangla

আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে কালো দাগের কারণ ও পরিচর্যা

1 Reply

Lifestyle

স্লিভলেস পোশাক তো আজকাল সবাই পরছে। কিন্তু আপনি পরতে পারছেন না আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে কালো দাগের কারণে। আর যারা স্লিভলেস পরেন না তাদের জন্যও এই কালো দাগ অস্বস্তিকর। প্রিয় মানুষের সামনে কি যেতে চায় আন্ডারআর্ম বা বোগলের নিচে কালো দাগ নিয়ে? তাই আপনাদের জন্য আজকের লেখা, আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে কালো দাগের কারণ ও পরিচর্যা।

আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে কালো দাগের কারণ:

সেভিং :

আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে রেজার ব্যবহার কারণে শুধুমাত্র ত্বকের উপরের লোমটুকুই কাটা যায়। গোঁড়াসহ লোম উঠে আসে না। তাই একটা কালো কালো ভাব থেকে যায়। একই অবস্থা হেয়ার রিমুভাল ক্রিম এর ক্ষেত্রেও ঘটে। যা শুধুমাত্র লোমগুলোকে ত্বকের সার্ফেস থেকে দূর করে। এর গোঁড়া থেকে দূর করতে পারে না। এজন্য আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচের লোম দূর করার জন্য ওয়াক্সিং ভালো, কারণ এটি চুলের গোঁড়াসহ তুলে আনে।

মৃত কোষ :

আমাদের দেহের প্রত্যকটি অংশে লোমকূপ আছে। আর তাতে আছে মৃত কোষ। এই মরা কোষগুলো কালো দাগের সৃষ্টি করে। মরা কোষ দূর করার জন্য আপনি স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে স্ক্রাবটি যেন ল্যাকটিক এসিড সমৃদ্ধ হয় । এই মৃত কোষের কারনে কালো দাগের সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত ডিওডোরেন্ট বা এন্টিপারস্পাইরেন্ট ব্যবহার :

এটা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত হয়েছে যে ডিওডোরেন্ট এ যেসব কেমিক্যাল থাকে তা আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ কালো হওয়ার জন্য দায়ী। এই সব ডিওডোরেন্ট পিগমেন্টেশন করে যা কালো দাগ করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সেনসিটিভ ত্বকের জন্য তৈরি ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন অথবা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচের গন্ধ দূর করতে পারেন।

ফ্রিকশন বা ঘর্ষণ :

যখন খুব টাইট পোশাক পরি তখন কাপড়ের সাথে আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচের ত্বকের ঘর্ষণের কারণে কালো দাগ হতে পারে। যা কালো দাগ সৃষ্টি করে। পোশাক এমন হতে হবে যা গরমে আরামদায়ক এবং যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। এজন্য খুব টাইট পোশাক না পরে কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিৎ। সাধারণত যাদের আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচে চর্বি বা মেদ থাকে তাদের কাপড়ের সাথে ঘর্ষণটা বেশী হয় ফলে কালো হয়ে যায় জায়গাটা। তাই ওজন কমালে কিছুটা উপকার হবে ।

বংশগত কারণ :

মাঝে মাঝে বংশগত কারণেও আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ কালো হয়। অতিরিক্ত ওজন এবং হরমোনের কারণে অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কারণেও কালো হয়ে যায় আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচ। এজন্য এই সকল সমস্যা হলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিন। কারণ এই সকল সমস্যা আপনার শরীরে আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ কালো করার চেয়েও আরও ভয়াবহ সমস্যার জন্ম দিবে ।

ডায়াবেটিস:

ডায়াবেটিসের কারণেও আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ অংশটি কালো হতে পারে। আর এর অন্যতম কারণ এর হচ্ছে পিগমেন্টেশন। একারণে ইনসুলিন লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।

কালো আন্ডারআর্ম বা বগলের নিচ থেকে মুক্তির উপায় :

ওয়াক্সিং অথবা ইলেক্ট্রোলাইসিস:

আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ কালো হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ সেভিং অথবা হেয়ার রিমুভিং ক্রিম। এজন্য ওয়াক্সিং করুন। যদিও এটা আপনাকে কিছুটা ব্যাথা দিবে। কিন্তু এর মাধ্যমে চুল গোঁড়াসহ উঠে আসবে এবং এতে করে আপনার আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচ হবে ফর্সা। এটি এক্সফোলিইয়েটিং হিসেবেও কাজ করে। যারা আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচের লোম থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি পেতে চান তারা ইলেক্ট্রোলাইসিস করতে পারেন ।এটি একটি স্থায়ী পদ্ধতি। সময়ের সাথে আস্তে আস্তে কালো দাগ চলে যাবে ।

ফর্সাকারী মাস্ক :

কালো আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচ ফর্সা করার জন্য ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন মাস্ক ।

উপকরণ:-

  • আধা চা চামচ লবণ
  • ১/৩ কাপ গোলাপ জল
  • ১/৩ কাপ জনসন বেবি পাউডার ।

পদ্ধতি :- উপরের সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন।যতক্ষণ নরম একটি মিশ্রণ না হয়।এটি আপনার আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন আর ভালো ফলাফল দেখুন প্রথম বার ব্যবহারেই । এটি প্রতিবার ওয়াক্সিং এর পর পরই আপনার আন্ডার আর্ম বা বগলের নিচে লাগাবেন ।

লেবুর রস :

এটি একটি খুবই উপকারী পদ্ধতি। গোসলের আগে লেবু কেটে আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচে ঘষতে হবে। লেবু ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে। গোসলের পর ত্বক নরম করার জন্য ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান ।

স্ক্র্যাবিংঃ

অনেক সময় মৃত চামড়ার কারণে বগলে বিচ্ছিরি কালো দাগ হয়ে যায়। তাই মৃত চামড়া সরিয়ে ফেলতে পারলে বগলের কালো দাগ অনেকটাই কমে যায়। আর মরা চামড়া পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত স্ক্র্যাবিং করা। জেনে নিন স্ক্র্যাবিং এর দুটি পদ্ধতি।

  • পদ্ধতি ১ঃ
    আধা চা চামচ লবণ, দুই চামচ গোলাপ জল, সামান্য জনসন বেবি পাউডার মিশিয়ে বগলের নিচে কিছুক্ষন ঘষে নিন। ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করুন।
  • পদ্ধতি ২ঃ
    লেবুর খোসায় চিনি লাগিয়ে নিন। এবার চিনি সহ লেবুর খোসাটি বগলের ত্বকে ভালো করে ঘষুন। নিয়মিত ব্যবহারে ফলাফল পাবেন।

আলুর রসঃ

বগলের কালো দাগে নিয়মিত আলুর রস ব্যবহার করুন। আলুর রস প্রাকৃতিক ভাবে দাগ দূর করতে সহায়তা করে। তাই সপ্তাহে অন্তত দিন দিন বগলের ত্বকে আলুর রস লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। ধীরে ধীরে বগলের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।

জাফরান মিশ্রণ :

এক চিমটি জাফরান ২ চামচ দুধে অথবা ক্রীমে মিশিয়ে শোবার সময় আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচে লাগান। পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন।এটি শুধু বাহুর নিচের অংশ কে ফর্সাই করে না, জার্ম ও ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে।

ডিওডোরেন্ট কম পরিমাণে ব্যবহার করুন :

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে শরীরের গন্ধ কিছুদিনের জন্য দূর করুন।বেকিং সোডা অল্প পানিতে দিয়ে আন্ডার আর্ম বা বাহুর নিচটা ধুয়ে ফেলুন। ডিওডোরেন্ট সরাসরি শরীরে না লাগিয়ে কাপড়ে লাগান ।

চন্দন ও গোলাপজল :

একসাথে মিশিয়ে লাগান। চন্দন এর ফর্সাকারী উপাদান দিয়ে ফর্সা করবে আর গোলাপ জল ত্বক রাখবে ঠান্ডা আর নরম ।

বেকিং সোডাঃ

বগলের কালচে দাগ ওঠাতে বেকিং সোডা বেশ কার্যকরী। বেকিং সোডার সাথে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রনটি বগলের নিচের ত্বকে ভাল করে ঘষে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে কমপক্ষে চার বার ব্যবহার করুন। এতে ধীরে ধীরে বগলের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।

তথ্য: সংগৃহীত

1 comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end