করোনা ভাইরাস কি, লক্ষণ কি, বাঁচার উপায় কি? – NariBangla

করোনা ভাইরাস কি, লক্ষণ কি, বাঁচার উপায় কি?

Comment

Health

যদিও আমাদের দেশে এখনো করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ বিশ্বের বহুদেশে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে।

করোনা ভাইরাস কি?

প্রথমে জেনে নেই করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস একটি নতুন ধরনের রোগ যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল। এর মধ্যেই চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে এবং অন্যান্য দেশেও এটি ধরা পড়েছে। চীনের উহানে গত ডিসেম্বর মাসে সনাক্ত হয় করোনা ভাইরাস।

করোনা ভাইরাস রোগীদের শরীরে নিউমোনিয়া তৈরি করছে। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। করোনা ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়।প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়। ভাইরাস প্রতিরোধক করতে কোন ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

 করোনা ভাইরাসের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো হলো – 
ক) সর্দি 
খ) গলা ব্যথা 
গ) কাশি 
ঘ) মাথা ব্যাথা 
ঙ) জ্বর 
চ) হাঁচি 
ছ) অবসাদ 
জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

এক্ষেত্রে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং যারা বয়স্ক তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।

মার্স ও সার্স-এর লক্ষণগুলো মারাত্মক হয়, এর কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কিডনিতে সমস্যা, ডায়রিয়া এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে বলে জানা গেছে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্ণয় হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, যথা – মলিকিউলার টেস্ট : সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে। 
সেরোলজি টেস্ট : এই পরীক্ষাটি নজরদারি করার উদ্দেশ্যে। এটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস চিকিৎসা এর সঠিক চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা হয়নি। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে, অনেকগুলো সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে যেগুলো এর হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গগুলির চিকিৎসা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যথা ও জ্বরের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য গরম পানি, ইত্যাদি।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ
ক) হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন। 
খ) কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন। 
গ) আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন। 
ঘ) রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়ান। ]
ঙ) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন। 
চ) লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না। 
ছ) ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন। 
জ) যথাযথ বিশ্রাম নিন। 
ঝ) ভিড় থেকে দূরে থাকুন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্ধিগ্ন না হয়ে চলুন সচেতন হই। নিজে পরিষ্কার থাকি, অন্যকে পরিষ্কার থাকতে বলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end