গর্ভপাত কি এবং গর্ভপাত কেন হয়? – NariBangla

গর্ভপাত কি এবং গর্ভপাত কেন হয়?

1 Reply

Health
গর্ভপাত কি এবং গর্ভপাত কেন হয়

১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ১০ থেকে ২০টি সন্তান গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ হয়ে যাচ্ছে। এর বিভিন্ন কারণ আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ৭৫ শতাংশ গর্ভপাত হয়ে থাকে প্রথম তিন মাসের মধ্যে। এদের প্রায় ৫০ শতাংশ কারণই হয় ক্রমোজমাল অস্বাভাবিকতা যদি থাকে সেই কারণে। সেটা হয়তো স্বাস্থ্যকর গর্ভধারণ থাকে না। ত্রুটিপূর্ণ কোনো গর্ভধারণ থাকে।

গর্ভপাত কি?

গর্ভকালীন প্রথম ২২ বা ২৪ সপ্তাহের মধ্যে যদি ৫০০ গ্রাম থেকে কম ওজনের একটি বাচ্চা প্রসব হয় সেই ক্ষেত্রে বাচ্চাটি আর স্বতন্ত্রভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। এই বিষয়টিকে আমরা গর্ভপাত বলি।

প্রেগন্যান্সির ১০ লক্ষণ জানাবে আপনি গর্ভবতী

গর্ভপাতের কারণ :

প্রথম তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাতের যে কারণগুলো আছে সেগুলো এ রকম- মায়ের যদি হরমোনাল কোনো ঘাটতি থাকে, প্রোজেস্টেরন বলি এর যদি আধিক্য থাকে। থাইরয়েড হরমোনের যদি আধিক্য বা ঘাটতি থাকে, সেই ক্ষেত্রেও গর্ভপাত হতে পারে। এ ছাড়া কিছু সংক্রমণ আছে, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যারাসাইটিক ইনফেকশন- সেসব কারণেও হতে পারে। মায়ের যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকে, সেসব কারণেও প্রথম তিন মাসে গর্ভপাত হতে পারে।

এরপরের তিন মাস থেকে ছয় মাসের মধ্যে যে গর্ভপাতগুলো হয়, তার মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে জরায়ু যদি খুব দুর্বল বা জরায়ুর মুখ যদি একটু বড় হয়ে যায়, সেসব ক্ষেত্রে গর্ভের যে সন্তানটি বেড়ে উঠছে; তাকে সে ধরে রাখতে পারে না। এই কারণেও গর্ভপাত হতে পারে। এ ছাড়া জরায়ুর ভেতরে পরিবেশ যদি ভালো না হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু বিনাইন টিউমার রয়েছে, ভালো কিছু টিউমার যেমন ফাইব্রয়েড, সেটা থাকলে বাচ্চা সেভাবে বড় হতে পারে না। সেই সব ক্ষেত্রেও গর্ভপাত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন কেমিক্যাল রয়েছে, আর্সেনিক দূষণ বা কেমোথেরাপি এসব বিভিন্ন কারণে গর্ভপাত হতে পারে।

গর্ভপাতের কারণগুলোকে মোটামুটি দুভাগে ভাগ করা যায়-

১. ভ্রুণের অস্বাভাবিকতা বা ক্রমোজমের ত্রুটি।

২. গর্ভবতী মায়ের শরীরের নানা ত্রুটির জন্য গর্ভপাতের আশংকা থাকে৷ যেমন-

  • গর্ভবতীর যদি গর্ভাবস্থায় খুব জ্বর হয় এবং তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যায়৷
  • গর্ভবতীর যদি গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যায়৷
  • গর্ভবতীর যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং তা যদি পূর্বে শনাক্ত করা না হয়ে থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত থাকে৷
  • গর্ভবতীর যদি কিডনীর অসুখ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) থাকে৷
  • গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়৷
  • গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়৷
  • থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে৷
  • জরায়ুর টিউমার বা জরায়ুর গঠনগত কোনও ত্রুটি থাকলে৷
  • জরায়ুতে গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা যদি খুব নিচে নেমে আসে তাহলেও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে৷
  • আগের গর্ভাবস্থা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত করানো হয়৷
  • মায়ের শরীরে প্রোজেস্টেরোন হরমোন কম থাকার কারণে গর্ভপাত হতে পারে৷
  • গর্ভবতী যদি অত্যধিক মদ্যপান বা ধূমপানে আসক্ত হন তবে গর্ভপাত হতে পারে৷
  • গর্ভবতী যদি প্রবল মানসিক পীড়ণে থাকেন বা চরম শোক দুঃখ পান তাহলে গর্ভপাত হতে পারে৷
  • গর্ভাবস্থায় পেটে আঘাত পেলে, অত্যধিক পরিশ্রম, বাস বা ট্রেনে অনেক দূরে যাতায়াত করলে গর্ভপাত হতে পারে৷

বারবার গর্ভপাত :

  • যদি কারো হরমোনের সমস্যা থাকে, তার ক্ষেত্রে  হয়তো বারবার গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • জরায়ুর মুখ যদি ঢিলা থাকে, সেই ক্ষেত্রেও বারবার হতে পারে।

তবে অবশ্যই এগুলো নিরাময়যোগ্য যদি তিনি চিকিৎসকের কাছে যান এবং চিকিৎসা করিয়ে নেন। আর তাতে বারবার গর্ভপাত হবার আশংকা কমে যায়।

যদি হরমোনের সমস্যা থাকে, তাঁকে চিকিৎসা দেয়া হয়। জরায়ুর মুখ যদি ঢিলা থাকে সেই ক্ষেত্রে ১৪ সপ্তাহ বা ১২ সপ্তাহের দিকে জরায়ুর মুখকে শক্ত করার জন্য একটি সেলাই দেয়া হয়ে থাকি, সেই ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তান ভালো থাকে।

কি লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে গর্ভপাত হচ্ছে?

  •  অল্প সময়ের জন্য গর্ভবতী, হঠাৎ করে তাঁর রক্তস্রাব হচ্ছে, এটা প্রথম একটি সমস্যা যেটা মা আমাদের কাছে নিয়ে আসে।
  • রক্তস্রাব হচ্ছে সেটি ফোঁটায় ফোঁটায় হচ্ছে অথবা অনেক বেশি পরিমাণ হচ্ছে। কালচে রঙের অথবা একেবারে তাজা লাল রক্ত। সঙ্গেথে কখনো পেটে ব্যথা হচ্ছে।
  • অনেক সময় খুব বেশি রক্তপাত হয়। মাংসের মতো কোনো চাকা বের হয়েছে।
  • যদি অদক্ষ হাতে গর্ভপাত করা হয়, রোগী আমাদের কাছে আসেন জ্বর নিয়ে, সাথে দুর্গন্ধ যুক্ত সাদাস্রাব। এই ধরনের লক্ষণ গুলো আমরা সচরাচর রোগীদের ভেতর পাই।

যে সব খাবার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে দেয়

গর্ভপাত হলে পরামর্শ:

  • কমপক্ষে একমাস বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত৷
  • বাড়ির হালকা কাজকর্ম করা যেতে পারে৷
  • একমাস স্বামী-সহবাস করা যাবে না৷
  • পরবর্তী বাচ্চা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে৷

গর্ভপাত প্রতিরোধ

প্রথম তিন মাস একটু ঝুঁকির মধ্যে থাকে, সেই ক্ষেত্রে আমরা হয়তো একটু বিশ্রামে থাকতে বলি, দীর্ঘ ভ্রমণ করতে না করি। কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো খেলে হয়তো বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেগুলো যেন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খান, সে ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। আর কারো যদি কোনো সমস্যা পেয়ে যাই সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসা যদি আমরা দিয়ে দিতে পারি, হয়তো বা গর্ভস্থ শিশুটির আর গর্ভপাত হবে না।

  1. সন্তান সম্ভাব হলেই চিকিৎসককের কাছে পূর্বের সকল ইতিহাস খুলে বলতে হবে৷
  2. নিয়মিত চেকআপ জরুরি৷
  3. সন্তান সম্ভাব হওয়ার প্রথম দিকে রিকশা, বাস, ট্রাম, ট্রেন ইত্যাদির ঝাঁকুনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত৷
  4. টিউবয়েল পাম্প করা, পানি ভর্তি ভারী বালতি তোলা, বাচ্চা কোলে নেওয়া ঠিক নয়৷
  5. ছোঁয়াচে অসুখ থেকে গর্ভবতী মাকে দূরে রাখতে হবে৷
  6. দোকান বা হোটেলের খাবার না খাওয়াই ভালো৷
  7. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে৷

গর্ভপাত নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না। মেনে চলুন গর্ভপাত প্রতিরোধের নিয়মগুলো। গর্ভধারণ করলে নিয়মিত ডাক্তার দেখান। গর্ভপাত হলে কারণ জেনে নিন এবং তার জন্য চিকিৎসা নিন। এর পরও অনেক কারণে গর্ভপাত হতে পারে যা আপনার বা হাসব্যন্ডের কিছু করার নেই। মেনে নিন। চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে আবার চেষ্টা করুন। ভালো থাকুন।

1 comment

  1. সায়মা

    আমার পাচ মাসের বাচ্চা এবোশন হইয়া গেছে। তেমন কোন সিমটম ছিল না আগে থেকে হঠাৎ করে ব্ল্যাড গেছে আস্তে আস্তে জরায়ুর মুখ খুলে গেছে .. ডাক্তার ও বলতে পারে নাই.. কেন এটা হইছে… আমি কি এটার কারণ টা জানতে পারি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end