গায়ে হলুদের সাজ – পোশাক গহনা ও হলুদের সরঞ্জাম – NariBangla

গায়ে হলুদের সাজ – পোশাক গহনা ও হলুদের সরঞ্জাম

4 Replies

Lifestyle
গায়ে হলুদের সাজ

আবহমান কাল থেকে বিয়ের আগে গায়ে হলুদের পর্ব পালিত হয়ে আসছে । তবে বর্তমানে যেমন জাঁকজমকপূর্ণভাবে গায়ে হলুদ পালিত হয়, আগে সেভাবে পালিত না হলেও বিয়ের আগে অন্যতম অনুষ্ঠান হিসেবে গায়ে হলুদের ঐতিহ্য সহস্র বছরের পুরোনো। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে থেকে মসলার পাশাপাশি প্রসাধনী হিসেবে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদ সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। কাঁচা হলুদ অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে। দুইটি মানুষের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় স্মরণীয় করে রাখতে সবাই চায়। আর বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনাই হচ্ছে গায়ে হলুদের মধ্য দিয়ে। সেই গায়ে হলুদের সাজ নিয়ে সবারই থাকে বাড়তি আয়োজন।

বিয়ের আগে ত্বকের যে যত্নগুলো নেয়া জরুরী

গায়ে হলুদের সাজ এর পোশাক

একটা সময় ছিল যখন বিয়ের গোসলের আগে কনেকে সারা গায়ে চন্দন ও হলুদ মাখিয়ে ভালো মতো গোসল করিয়ে দেয়া হত। যেনো বিয়ের পোশাকে কনের গায়ের রঙ অনেক উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখায়। কালক্রমে এই আনুষ্ঠানিকতার আলাদা একটা নাম ও রূপ নিয়েছে। এখন অনেক ঘটা করে গায়ে হলুদ করা হয়। বরাবরই আমাদের দেশে কনের হলুদ শাড়ি হিসেবে দেয়া হত হলুদ শাড়ি লাল পাড়। তবে দিনে দিনে এরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেকে গায়ে হলুদেও ভিন্ন রকম শাড়ি পরে থাকে। এতে অবশ্য দেখদে খারাপ লাগে না।

সুজানা আবার বিয়ের কথা ভাবছে, কেমন পাত্র খুজছে?

‘গায়ে হলুদ’ নামটির সঙ্গে মিল রেখে আবহমানকাল থেকে কনেরা হলুদ রঙের শাড়ি ব্যবহার করে আসছে গায়ে হলুদে। এক সময় গায়ে হলুদের জন্য নির্ধারিত ছিল কেবল হলুদ শাড়িই। বর্তমান সময়ে গায়ে হলুদের সাজ এ রকম ধারণার একটু পরিবর্তন হচ্ছে। এখন কেবল হলুদ নয়, বরং একরঙা লাল, কাঁচা মেহেদির রং, সবুজও চলতে পারে। আর শাড়ি সব সময় হলুদ হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি চাইলে ভিন্ন রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পারেন। ফেব্রিক হতে পারে মসলিন, সিল্ক, কটন, জামদানি। শাড়িতে খুব জমকালো কাজ না থাকলেই ভালো। এ অনুষ্ঠানে বরপক্ষের ও কনেপক্ষের আত্মীয়রাও একই ধরনের বা রঙের কাপড় পরলেই ভালো। সাথে উভয় পক্ষকে সহজেই আলাদা করা যায় এবং দেখতেও ভালো লাগে। অতীতে এ প্রচলনটাই ছিল। তবে শুধু শাড়িই যে পরতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি যদি কমফোর্ট ফিল করেন তাহলে পরে নিতে পারেন লেহেঙ্গা অথবা লং কামিজ। আর সাথে মানানসই গহনা ও সাজ শুধু হলুদকে বেজ করে আপনি শাড়িতে নানা রঙের পাড় বসিয়ে দিতে পারেন। তাহলে আপনার শাড়ি ও সাজে আসবে ভিন্নতা। আবার শাড়ি গহনা সব যদি একই রঙের ম্যাচ করে পরে থাকেন তাহলেও কিন্তু দেখতে অনেক ভালো লাগবে।

অসম প্রেম বিয়ের সম্পর্কে সমস্যা এবং তার সমাধান

হলুদের গহনা

হলুদের শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গহনা তৈরি করতে হবে। হলুদের সাজের পূর্ণতা আনতে গহনা অবশ্যই জরুরি। সময়টা যেহেতু শীতকাল। তাই এখন ফুলের মৌসুম। কাঁচা ফুলের গহনাই বেশি মানানসই। এ ছাড়া শুকনো ফুলের সঙ্গেও পুঁতি-জরির কাজ, স্টোন দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ফুলের মালা কিনতে পাওয়া যায়। যা শাড়ির রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে অর্ডার দিয়ে বানিয়েও নেয়া যায় । যেমন গহনাই পরা হোক না কেন, ফুলের আকার ছোট হলেই ভালো। সাজের একটু ভিন্নতা আনতে চাইলে রুপা বা পুঁথির গহনাও পরতে পারেন। হাতে থাকতে পারে ফুলের গহনা। বাজুতে ফুল এবং হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি।

গায়ে হলুদের সাজ

গায়ে হলুদের মেকআপে হালকা মেকআপ করলেই ভালো। হলুদের অনুষ্ঠানে একটা ঘরোয়া ভাব থাকে। গায়ে হলুদে যদি হলুদ রঙের শাড়ি বেছে নেয়া হয় তবে মেকাপ হবে গোল্ডেন, ব্রাউন, ব্রোঞ্জ শেডের। মেকআপ হালকা হলেই ভালো দেখায়, চোখের সাজেও গোল্ডেন, ব্রোঞ্জ, ব্রাউন আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। সঙ্গে গাঢ় করে আইলাইনার। মাশকারা ও আইলাশের ব্যবহার চোখ দুটোকে করে দেয় অনেক বেশি আকর্ষণীয়। গালে ব্রাউন ব্লাশঅন, শেড আর ঠোঁটে ন্যাচারাল লিপস্টিক। লিপ গ্লস না ব্যবহার করে এমন লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিৎ যা বেশিক্ষণ পর্যন্ত থাকে। চেহারায় বাড়তি একটি সোনালি আভা আনার জন্য ব্যবহার করুন গোল্ডেন ব্রাউন শিমার। চুলে লম্বা বেণী করে ফুলের মালা জড়িয়ে দিতে পারেন বেণীতে।

যে ৫ টি কারনে পুরুষেরা অল্প বয়সী নারীদের বিয়ে করে থাকে

মেহেদি

উৎসবে আনন্দ ও মেহেদি থাকবেনা সেতো হতেই পারেনা। হিন্দু, মুসলমান এমনকি বিভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতিতে মেহেদির লাগানোর প্রচলন যুগ যুগ ধরে। আজকাল মেহেদির আলাদা করে অনুষ্ঠান করা হয় । হাতে পায়ে নকশা করতে টিউব মেহেদি আজকাল বেশি জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য বলে এর চাহিদাও বেশি। বাটা মেহেদি দেওয়ার ক্ষেত্রে গতানুগতিক রীতিই প্রচলিত। হাতের তালু ও আঙ্গুলের মাথা রাঙানো হয়। এতে হাতের ও নখের ত্বক রঙিন হওয়ার পাশাপাশি উজ্জ্বল হয় এবং ভালো থাকে। অনেকেরই ধারণা কনের হাতের মেহেদির রং যত গাঢ় হবে, তাদের ভালোবাসার ভিতও ততই মজবুত হবে।

চিরসবুজ থাকতে হেমা মালিনীর সাজেশন

বিয়ের কনের ক্ষেত্রে হাতের কনুই পর্যন্ত জমকালো মেহেদি পরাটাই বর্তমানে প্রচলিত। বর্তমানে মেহেদির ডিজাইনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অ্যারাবিয়ান ডিজাইন। অ্যারাবিয়ান ডিজাইনের ক্ষেত্রে কালো মেহেদি এবং সাধারণ মেহেদি—দুটোই ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে বর্ডারে কালো মেহেদির ব্যবহার হয় এবং ভেতরের সূক্ষ্ম ডিজাইনটি হয় সাধারণ মেহেদির দ্বারা। এ ছাড়া হলুদের অনুষ্ঠানে যদি মেহেদি পরতে চান, তাহলে ডিজাইনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করতে পারেন ফেব্রিক্স, স্টোন ও চুমকি মেহেদির ডিডাইনের মধ্যে। হলুদের দিন মেহেদি এবং হাতের উল্টোদিকে আল্পনা করতে চাইলে টুকটুকে লাল গোল ডিজাইন এবং তার সাথে করতে পারেন হলুদ ও সবুজের ব্যবহার।

গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা – কি খাবেন আর কি খাবেন না

গায়ে হলুদের সাজ এ সতর্কতা

কালো মেহেদিতে অনেকেরই অ্যালার্জির কারণে র‍্যাশ বেরোয়। বিয়ের সময়ে এ কারণে হাতে দুধরণের মেহেদী ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ব্যবহার যদি করতেই হয়, তাহলে আগে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন কালো মেহেদিতে আপনার স্কিনে অ্যালার্জি বেরোচ্ছে কি না।

অনেক সময় স্কিনে কাঁচা হলুদ পেস্ট লাগালেও র‍্যাশ বেরোয় ও ত্বক চুলকায় সেক্ষেত্রে কাঁচা হলুদের সঙ্গে বাড়তি কিছু উপকরণ মিশিয়ে নিলেই এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় যেমন, মশুরের ডাল বাটা, বাদাম বাটা, উপটন যেকোনো উপকরণ বাটা হলুদের সাথে মিলিয়ে নিলে র‍্যাশ থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে এবং এটি ত্বকের জন্যও ভালো হবে।

স্তন বড় করার উপায়

কোথায় পাবেন গায়ে হলুদের সাজ এর সরঞ্জাম

গায়ে হলুদ এবং বিয়ের অন্যান্য আয়োজনে বাহারী ডিজাইনের ডালা,কুলা ইত্যাদি খুবই প্রয়োজনীয়। এলিফ্যান্ট রোডে বিয়ের ডালা, কুলা, বাটি/প্রদীপ, রাঁখি ইত্যাদির দাম পড়বে ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। বিয়ের উপটান, সোন্দা, চন্দন, চন্দন তেল, সোহাগপুরী ইত্যাদির দাম পড়বে ৩৫০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। কনের জন্য আলতা ৩০ থেকে ৬০ টাকা, মেহেদি ৪০ থেকে ১২০ টাকা, পাটি ১৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, হলুদ তোয়ালে ১২০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।

সহজে ব্ল্যাকহেডস দূর করার ১৩ টি ঘরোয়া উপায়

বিয়ের অনুষঙ্গের মধ্যে আরও রয়েছে আফসান, রুমাল, পালকি ও ঝুড়ি। এগুলোর দাম পড়বে ১০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও পান-সুপারী, মাছডালা ২৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টুথপিক ২০ থেকে ৫০ টাকা, তাজা গোলাপ ফুল প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকা, সাদা ফুল প্রতি পিস ৪ থেকে ৬ টাকা, রজনীগন্ধা প্রতি স্টিক ৫ থেকে ১০ টাকা।

4 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end