রাতে চলাচলে সচেতন হউন – NariBangla

রাতে চলাচলে সচেতন হউন

2 Replies

Lifestyle

রাত- অন্ধকারের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ যেন একসাথে জড়িয়ে আছে এই বেলাটার সাথে। আর অন্য সব সময়ের চাইতে রাতে বেড়াতেই কিন্তু বেশি ভালো লাগে। তাই বেশি রাতে বাইরে থাকার একটা দুনির্বার আকর্ষণ কাজ করে। অথচ এই রাতেই ওঁত পেতে থাকে যত সব অনভিপ্রেত বিপদ! চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, হয়রানি, ধর্ষণ ইত্যাদি শব্দগুলোও রাতের সাথে জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। তাই রাতে একা কোথাও যেতে হলেই মনে চাপা টেনশন অস্বস্তি কাজ করে।

বাড়ি ফিরতে আমাদের সবারই মাঝে মধ্যে দেরি হয়। কখনো অফিসে কাজের চাপ বেশি থাকে, আবার কখনো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতেই দেরি হয়ে যায়! এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লেট নাইট সিনেমার শো, পার্টি বা বন্ধুর বাড়িতে গ্রুপ স্টাডি- বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ার কারণ এসবও। ছেলেদের ফিরতে দেরি হলে সাধারণত সেটা নিয়ে কেউ তেমন একটা মাথা ঘামান না। কিন্তু মেয়েরা ‘ফিরতে দেরি হবে’ বললেই ভেসে আসে একগাদা প্রশ্নের স্রোত! এতে বিরক্তি তো লাগে খুবই, কিন্তু প্রশ্নকর্তাকে খুব একটা দোষ দেয়াও ঠিক হবে না। কারণ আমরা যতই সভ্য হই না কেন, পৃথিবীর কোনো জায়গাই মেয়েদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

ইভ টিজিং বা রেপের জন্য মেয়েদের পোশাক বা আচরণকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা যায় ইদানীং। রাতে কোথাও একা বের না হওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফেরা বা ‘বিশেষ’ ধরনের রক্ষণশীল পোশাক পরা- এগুলো বিপদের সমাধান নয় মোটেও! কারণ এ সবকিছু করার পরও অসংখ্য মেয়েরা প্রতিদিন রাস্তা-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে অ্যাবিউজের শিকার হচ্ছেন। আসলে বদলাতে হবে সবারই আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গি। মেয়েদের মতো ছেলেরাও কিন্তু বেশি রাতে একা নিরাপদ নন! ছিনতাইকারী বা মলমপার্টি লিঙ্গ দেখে ছাড় দেয় না মোটেও। বরং ছিনতাইয়ের পর ছেলেদের আহত হবার ঘটনাই ঘটে বেশি। মেয়েদের থেকে ছেলেরা একদিকেই একটু নিরাপদ থাকেন আর তা হলো, তাঁরা ধর্ষণের শিকার হন না।

ছেলে বা মেয়ে- আপনি যেই হন না কেন, নিজেকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব অনেকটা আপনার নিজের ওপরেই বর্তায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হলে নিজের নিরাপত্তা আপনি নিজেই অনেকাংশে নিশ্চিত করতে পারবেন। রাতবিরেতে নিজেকে নিরাপদ রাখতে জেনে নিন কিছু কৌশল –

  • আক্রমণকারীদের নজর থাকে এমন মানুষদের উপর যারা অন্যমনস্ক বা আশেপাশে খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছে না। কোথায় আছেন, আশেপাশে কারা আছে, কেউ একটানা তাকিয়ে আছে কিনা, কেউ আপনাকে অনুসরণ করছে কিনা- এসব বিষয়ে তীক্ষ্ম নজর রাখুন।
  • রাতে বাইরে থাকতে হবে আগে থেকে জানা থাকলে সেদিন অবশ্যই মোবাইল ফোন ফুলচার্জ দিয়ে বের হোন। যাতে প্রয়োজনের সময় চার্জের অভাবে কারো সাথে যোগাযোগ করতে সমস্যা না হয়।
  • কর্মক্ষেত্র বা যেসব জায়গায় আপনার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে, তার আশেপাশের কয়েকটি থানা ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। বিপদ অনুভব করলে বাড়ির লোক ও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • নিজে গাড়ি চালিয়ে যাতায়াত করলে কখনোই নির্জন জায়গায় গাড়ি পার্ক করবেন না। এতে আচমকা হামলার শিকার হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
  • সঙ্গে কেউ না থাকলেও এমনভাবে চলাফেরা বা কথাবার্তা বলুন যাতে আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস থাকে। মনে রাখবেন, বেশির ভাগ আক্রমণকারীরাই কাপুরুষ হয়। তাই এদের মোকাবেলা করতে হলে আত্মবিশ্বাস ও উপস্থিত বুদ্ধিই হলো আপনার হাতিয়ার।
  • বিদেশে মেয়েরা অতর্কিত আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য ব্যাগে গোলমরিচের স্প্রে রাখেন। আপনি রাখতে পারেন বডি স্প্রে। হামলাকারীর চোখে-মুখে হঠাত্‍ স্প্রে করলে সে তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। এই সুযোগে আপনি সরে যেতে পারবেন। ব্যাগে বা পকেটে চাবি থাকলে সেটাও কাজে লাগাতে পারেন। কেউ ধস্তাধস্তি করার চেষ্টা করলে চাবিটা মুখের যেকোনো অংশে সজোরে গেঁথে দিতে পারলে হামলাকারী দুর্বল হয়ে পড়বে।
  • পথ চলতে গিয়ে হঠাত্‍ই অনেক মানুষের সাথে আলাপ হয়ে যায়। অচেনা অথচ প্রথম আলাপেই বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখাচ্ছেন, এমন মানুষকে এড়িয়ে চলুন। নিজের অস্বস্তিটা প্রকাশ করুন। এমন ভাব করুন যে আপনি তার আচরণকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে চেঁচিয়ে বা ধমক দিয়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করুন। এতে আশেপাশে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে এবং ওই ব্যক্তি তার সাহস হারাবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে শরীরে ক্ষিপ্রতা আসবে, যা বিপদে আপনার কাজে আসবে। ব্যায়ামের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল শিখে রাখুন। এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়বে, আবার বিপদে পড়লে নিজেকে রক্ষাও করতে পারবেন। আত্মরক্ষার কৌশল শেখার জন্য প্রচুর বই ও ভিডিও পাওয়া যায়। সেগুলো পড়ে ও দেখে নিজে নিজেই চর্চা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মার্শাল আর্ট কোর্সেও ভর্তি হতে পারেন।
  • বিপদজনক এলাকাগুলো এড়িয়ে চলুন। এসব জায়গায় কর্মক্ষেত্র হয়ে থাকলে নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে আপনার ঊর্ধ্বতনের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি অফিসে এসে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যান।
  • বাড়ি ফেরার যত তাড়াই থাক না কেন, অপরিচিত কারো কাছ থেকে লিফট নেবেন না। লিফট প্রদানকারী যদি নারী হন, তবুও না! কারণ এই সাহায্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে।

যত যাই হোক না কেন, মাথা ঠান্ডা রাখবেন। ভয় পাবেন না বা রেগেও যাবেন না। অতিরিক্ত আবেগের কারণে আপনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। ইভ টিজিং, ধর্ষণ, রাহাজানি, ছিনতাই – ইত্যাদির খবর আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখি এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেগুলো পড়ি! কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা ঘামাই না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা নিজে এসবের শিকার হচ্ছি! এ ধরনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য বসে থাকলে হবে না, সতর্ক হতে হবে আগে থেকেই। তাই নিজে সতর্ক হোন এবং অন্যকেও সতর্ক হতে সাহায্য করুন। বিশেষ করে অচেনা মানুষের সাথে মেলামেশায় সচেতন হোন। রাস্তায় কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে পাশে গিয়ে দাঁড়ান, সাহায্য করুন। নিজে কিছু করতে না পারলে অন্তত পুলিশে খবর দিন।

[ সংগৃহিত ]

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end