সুখী মানুষের দশটি অভ্যাস – NariBangla

সুখী মানুষের দশটি অভ্যাস

4 Replies

Lifestyle

গানের মত করে বললে, “সবাইতো সুখী হতে চায়, কেও হয় কেউ হয়না”। যারা সুখী তারা কেন সুখী?  সুখী মানুষদের দশটি অভ্যাস নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন। ট্রাভিস ব্রাডবেরি নামে সেই লেখক সুখী মানুষের দশটি অভ্যাসের কথা লিখেছেন সেগুলো হচ্ছে:

 

১. রুটিন থামিয়ে জীবনের ছোট্ট আনন্দগুলো উপভোগ করে

রুটিনমাফিক চলাতে আনন্দ নেই, বৈচিত্র্য নেই। তাই প্রাত্যহিক কাজের ফাঁকেও যদি জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন তাহলে সুখ বেড়ে যাবে। খুব তাড়াহুড়ো করে কোথাও হয়তো যাচ্ছেন কিন্তু পথে হয়তো সুন্দর একটি দৃশ্য দেখলেন। সেটা দেখুন, উপভোগ করুন। আপনি বাসাতে ব্যস্ত কিন্তু আপনার বাসার ছোট্ট একটি শিশু হয়তো খেলাধূলা করছে সেটা দেখুন, উপভোগ করুন।

 

২. তারা শরীরচর্চা করে

অন্তত দশ মিনিট শরীরচর্চা আমাদের শরীর থেকে গাবা নামে একটি উপাদান নিঃসরণ করায়। এটা আমাদের মস্তিষ্ককে প্রশান্ত করে এবং আমাদের আবেগের উপর প্রভাব ফেলে। সুখি মানুষেরা প্রতিদিন কিছু না কিছু শরীরচর্চা করে।

 

৩. তারা অন্যের জন্য টাকা খরচ করেন

স্বার্থপরতা আমাদের দুঃখের কারণ। আমরা যখন নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি, নিজেদের সুখের পেছনে দৌড়াই তখনই আসলে সুখ আমাদের থেকে দূরে সড়ে যায়। অন্যকে সুখি করার মধ্যেই আসলে প্রকৃত সুখ। এজন্য সুখি মানুষেরা অন্যের জন্য খরচ করেন। কাউকে কোন একটা বই বা অন্য কোন উপহার কিনে দিলে সুখটা নিজেই অনুভব করতে পারবেন।

 

৪. তাদের আশেপাশে সঠিক লোকজন থাকে

সুখ মানুষের দ্বারাই সঞ্চারিত হয়, মানুষের মধ্যেই সঞ্চারিত হয়! আশেপাশে সুখি মানুষ থাকলে আপনার মধ্যেও সুখ সঞ্চারিত হবে। নেতিবাচক লোকের পাশে থাকলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে। হতাশ মানুষেরা তাদের দল ভারি করার চেষ্টায় থাকে সবসময়। আর ইতিবাচক ও সুখি মানুষের পাশে থাকলে নিজের মধ্যে সুখ ও ইতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়ে।

 

৫. তারা ইতিবাচক থাকে

খারাপ জিনিস যে কারো জীবনে আসতে পারে। সুখি মানুষের জীবনেও খারাপ সময় আসে। তারা অভিযোগ-অনুযোগ না করে কারণ খুজে বের করে এবং সমাধানের চেষ্টা করে। হতাশার চাষবাষ করার মতো নেতিবাচকতা আর কোন কিছু নেই।

 

৬. তাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়

সুখ মাপার জন্য ঘুম একটা বড় প্যারামিটার। অসুখী মানুষের ঘুম কম হবে সেটা স্বাভাবিক। আর সুখি মানুষ ভালো ঘুমাতে পারেন এবং তারা পরিমিত ঘুমের ব্যবস্থা করে রাখেন।

 

৭. তারা স্বাস্থ্যকর আড্ডায় যোগ দেন

পরচর্চা, গালগল্প, গীবত খুবই নেতিবাচক চর্চা। সুখি মানুষ এগুলো এড়িয়ে চলেন। তারা অর্থবহ আলাপ করেন। তারা অন্যের সাথে আলাপে আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ করে।

 

৮. তারা অন্যকে সহায়তা করে

অন্যকে সহায়তা করলে শরীরে অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসরন হয়। এগুলো আমাদের শরীরে ভালো অনুভূতির সৃষ্টি করে।

 

৯. তারা সুখি থাকার চেষ্টা করে

হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠেই নিজেকে সুখি হিসেবে পাওয়া যায় না। সুখি থাকার জন্য চেষ্টা, আগ্রহ থাকতে হয়। নিজের মনকে স্টাডি করতে হয় এবং সচেতনভাবেই সুখি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। সুখি হওয়ার বিষয়টা আসলে একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

 

১০. তাদের বিকাশের মনোভাব থাকে

স্থির থেকে সুখি হওয়া যায় না। জীবনে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে আপনার প্রশান্তি বাড়ে। থেমে থাকলে ও স্থবিরতা নিয়ে আসলে জীবন কষ্টকর হয়ে উঠে। যাদের এই বিকাশের মনোভাব আছে তারা বিশ্বাস করে তারা তাদের চেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

 

উপরের সবগুলো বা বেশ কয়েকটির উপস্থিতি থাকলেই আপনার জীবনে সুখের পাখি উড়বে। যাদের মধ্যে এ গুণগুলো নেই তারা চেষ্টা করতে পারেন কয়েকটি গুণ ধীরে ধীরে নিয়ে আসার জন্য। দেখবেন জীবনে পরিবর্তন চলে এসেছে, সুখের পরিমাণ বেড়েছে।

সূত্র: ফোর্বস

4 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

//GA Code Start //GA code end